কে এম, রাশেদ কামাল, মাদারীপুর প্রতিনিধি:
মাদারীপুর জেলার বরেণ্য আলেম মাদারীপুর আহমদিয়া কামিল মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত হেড মুহাদ্দিস, হাজারো আলেমের ওস্তাদ মাওলানা আবু নাঈম মোঃ আব্দুল করিম ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) বৃহস্পতিবার রাতে মাদারীপুর শহরের মাস্টার কলোনির নিজ বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৯৫ বছর। কিছুদিন যাবত বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ ছিলেন তিনি ।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাওলানা আ ন ম আব্দুল করিম কর্মজীবনে শুরুতে মাদারীপুর আহমদিয়া কামিল মাদ্রাসায় শিক্ষকতা শুরু করলেও পরবর্তীতে মাদারীপুরের এ আর হাওলাদার জুট মিলের প্রধান হিসাবরক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। মিল বন্ধ হয়ে যাবার পর তিনি আবারও আলিয়া মাদ্রাসায় প্রধান মুহাদ্দিস হিসেবে শিক্ষকতা করেন। ২০০৪ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন।
আব্দুল করিমের স্ত্রীর বড় ভাই মাওলানা অধ্যক্ষ শাহজাহান বলেন, আমার ভগ্নিপতি বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ আলেমদের মধ্যে একজন ছিলেন। এদেশে তাঁর হাজারো ছাত্র রয়েছে। ছাত্র জীবনে তিনি দাখিল, আলিম, ফাজিল এবং কামিল সব শ্রেণীতেই বোর্ড স্যান্ড করেছিলেন।'
তাঁর ছোট ছেলে নুরুল হুদা সাগর বলেন, আমরা চার ভাই, তিন বোন। বড় ভাই দেশে ব্যবসা করেন, মেজ ভাই আমেরিকা প্রবাসী, সেজ ভাই বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজের লেকচারার এবং আমি একটি প্রাইভেট হাইস্কুলে জব করি। তিন বোনের মধ্যে এক বোন বিসিএস ক্যাডার হয়েছেন বর্তমান তিনি আমেরিকা প্রবাসী, আরেক বোন ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর ইন্সট্রাক্টর, ছোট বোন আর্মির একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছে।
মাওলানা আমিনুল ইসলাম বলেন, আমি সরাসরি হুজুরের ছাত্র। আমার সুযোগ হয়েছে তাঁর সাথে একত্রে মাদারীপুর আহমদিয়া কামিল মাদ্রাসায় চাকুরী করার। আমরা যতদিন তাঁর ছাত্র ছিলাম যতদিন তাঁকে কেবল ওস্তাদ হিসেবেই নয় বরং একজন অভিভাবক হিসেবে পেয়েছিলাম। কর্মজীবনেও তিনি আমাদের একজন অভিভাবকের মতোই আগলে রেখেছিলেন।'
জাজিরা কলেজের অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন দিশারী বলেন, 'হুজুর আমার ভগ্নিপতি। আমি তাঁর ছাত্রও বটে। একজন আলোর ফেরিওলা বলতে যা বুঝায় উনি ছিলেন ঠিক তা। তাঁর বিয়োগে মাদারীপুরবাসী একজন সত্যিকারের বড় মাপের আলেমকে হারালো।'
মাওলানা আব্দুল করিম প্রচন্ড মেধাবী ছিলেন। তিনি মাদারপুর আহমদিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল এবং আলিম পাশ করেছিলেন। পরবর্তীতে নোয়াখালীর টুমচর কামিল মাদ্রাসা থেকে ফাজিল এবং কামিল শ্রেণীতে বোর্ড স্ট্যান্ড করেন। মৃত্যুকালে তিনি চার পুত্র এবং তিন কন্যা সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে যান। শুক্রবার জুমা বাদ মাদারীপুর বড় মসজিদ চত্বরে জানাজা শেষে গ্রামের বাড়ি ঝাউদি ইউনিয়নের ব্রাহ্মন্দী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়।