মাহবুব পিয়াল,ফরিদপুর প্রতিনিধি :
পবিত্র রমজানের মধ্যেই ফরিদপুর শহরে শ্রমিকদের বোর্ডিংয়ের আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ সময় পতিতা ব্যবসা ও মাদক বাণিজ্যের অভিযোগে নারী-পুরুষসহ ১৯ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের গোয়ালচামট বিদ্যুৎ অফিসের সামনে কৃষাণহাট এলাকায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপ্ত চক্রবর্তী ও দেব কুমার পালের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানকালে কৃষাণহাট এলাকার শ্রমিক বোর্ডিংগুলোর বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৭ জন নারী ও ১২ জন পুরুষকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন অবৈধ যৌন উত্তেজক ওষুধ ও মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকার কৃষাণহাট মূলত দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা দিনমজুর ও শ্রমিকদের অস্থায়ী আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন প্রায় এক হাজার শ্রমিক সেখানে অবস্থান করেন। তাদের থাকার জন্য প্রায় অর্ধ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বোর্ডিং ও আবাসিক কক্ষ।
তবে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল, শ্রমিকদের থাকার আড়ালে এসব বোর্ডিংয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নারীদের এনে অনৈতিক ব্যবসা ও মাদক বাণিজ্য পরিচালনা করা হচ্ছিল। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে নানা ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলত বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
এদিকে অভিযানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের আটক করা হলেও ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপ্ত চক্রবর্তী বলেন, কৃষাণহাট এলাকায় গড়ে ওঠা আবাসিক বোর্ডিং ও হোটেলগুলোতে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের হাতেনাতে পাওয়া গেছে। পাশাপাশি মাদক ব্যবসা ও নিষিদ্ধ ওষুধ বিক্রির প্রমাণও মিলেছে। এজন্য নারী-পুরুষসহ ১৯ জনকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এই এলাকায় অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।