শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি:
মাদারীপুরের শিবচরে মাকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয়ার ৫ দিন পর ১ বছরের শিশু আবিরের লাশ আড়িয়াল খা নদী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, সোমবার সকালে উপজেলার নিলখী এলাকার মন্নান হাজীর মোড় সংলগ্ন মাদ্রাসা ঘাটে আড়িয়াল খাঁ নদে শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা শিবচর থানা পুলিশকে খবর দেয়। পরে শিবচর থানা পুলিশ ও নৌ-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল শেষে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর মর্গে প্রেরণ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন।
উল্লেখ্য, গত ১৯ আগস্ট ২০২৬, সকালে জেলার শিবচরের মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি এলাকায় জমির ঝোপের পাশে এক অজ্ঞাত নারীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পরিচয় শনাক্ত করে।
শনাক্তকৃত ওই নারীর নাম শাম্পা খাতুন (২৮)। তিনি নাটোর জেলার লালপুর থানার বেরিলাবাড়ি পোস্টের আট্রিকা গ্রামের ছামরুল ইসলামের মেয়ে। ৩ বছর আগে মাদারীপুর জেলার বড় মেহের এলাকার মো. শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সাথে তার মেয়ে শাম্পা খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ১ বছর বয়সী ছেলে আবির রয়েছে। এ ঘটনায় ২০ আগস্ট ছামরুল ইসলাম বাদী হয়ে শিবচর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরে পুলিশ ও র্যাব-৮, মাদারীপুরের একটি যৌথ দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ফারুক মোল্লা নামের কথিত এক সাংবাদিককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে শাম্পা খাতুনকে ধর্ষন শেষে হত্যা ও শিশু আবিরকে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেয়ার কথা স্বীকার করে।
শিবচর থানাপরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ রাকিবুল হাসান, জানান, সকালে ফোন কল পেয়ে আমরা নদী হতে অর্ধগলিত মরদেহটি উদ্ধার করি। ৫দিন আগে নারী হত্যার আসামির স্বীকারোক্তি পর হতে শিশুটি উদ্ধার করতে পুলিশসহ যৌথবাহিনী কাজ করছে। আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি যে এটাই ওই শিশুর মরদেহ।