ঢাবি প্রতিনিধি:
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা এবং
সংস্কারকাজে অগ্রগতি না হওয়ায় প্রতিবাদ হিসেবে আজ কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে
প্রতীকীভাবে দেশীয় মাছ অবমুক্ত করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র
সংসদ (ডাকসু)-এর নেতৃবৃন্দ।
ডাকসুর উদ্যোগে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের
সংস্কার ও আধুনিকায়নের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে ২ কোটি
টাকার অর্থায়ন নিশ্চিত করা হলেও, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রিতা ও
সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের অসহযোগিতার কারণে এখনো সংস্কারকাজ শুরু
হয়নি বলে অভিযোগ করেন ডাকসু নেতারা।
প্রতীকী এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব
দেন ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর
আন্তর্জাতিক সম্পাদক খান জসীম, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক মাজহারুল
ইসলাম, বিজ্ঞান সম্পাদক ইকবাল হায়দার, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের,
কার্যনির্বাহী সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল সংসদের
ভিপি আহসান হাবিব ইমরোজ, ফজলুল হক হল সংসদের জিএস ইমামুল হাসান, ড.
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ হল সংসদের জিএস তাওকির হাসান, বিজয় একাত্তর হল সংসদের
জিএস আশিক বিল্লাহ, এজিএস ইমরান হোসেন, বিভিন্ন হল সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক
এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী।
বক্তারা বলেন, বৃষ্টি হলেই কেন্দ্রীয়
খেলার মাঠে পানি জমে থাকে এবং দীর্ঘ সময়েও সেই পানি নিষ্কাশন হয় না। ফলে
বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থীর খেলাধুলা, প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন
ক্রীড়া আয়োজন নিয়মিতভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মাঠ সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ
থাকা সত্ত্বেও কাজ শুরু না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অগ্রহণযোগ্য।
এসময়
ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন বলেন, “ডাকসু নির্বাচনের পর আমাদের
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি উদ্যোগ ছিল কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ সংস্কার এবং
মেয়েদের জন্য একটি আধুনিক জিমনেসিয়াম স্থাপন। উভয় প্রকল্পের জন্যই আমরা
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু
প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতা ও অসহযোগিতার কারণে কোনো প্রকল্পই বাস্তবায়ন করা
যাচ্ছে না। বিসিবি থেকে মাঠ সংস্কারের জন্য দুই কোটি টাকা আনার পরও সেই
অর্থ ব্যবহার করে কাজ শুরু করা হয়নি। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে অবিলম্বে
সংস্কারকাজ শুরু করা প্রয়োজন।”
ডাকসু নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে কেন্দ্রীয়
খেলার মাঠের সংস্কারকাজ শুরু, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত এবং
শিক্ষার্থীবান্ধব উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে প্রশাসনিক অসহযোগিতা বন্ধের দাবি
জানান। একই সঙ্গে তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি শিক্ষার্থীদের
ন্যায্য দাবির প্রতি দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।