ঢাবি প্রতিনিধি:
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উৎকর্ষকে উৎসাহিত
করতে প্রতিষ্ঠিত এবিএম মূসা-সেতারা মূসা ফাউন্ডেশন বৃত্তি তহবিলের আওতায়
‘সেতারা মূসা বৃত্তি, ২০২৪-২০২৫’ প্রদান অনুষ্ঠান আজ ২৮ জুলাই ২০২৬,
মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের দ্বিতীয় তলার
কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ
অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি
হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল
ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা)
অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, কলা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল
কালাম সরকার এবং ট্রাস্ট ফান্ডের দাতা পরিবারের সদস্য ব্যারিস্টার মো.
আফতাব উদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.
সোহানা মাহবুব এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক
ড. সিরাজুল ইসলাম (সিরাজ সালেকীন)।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য
অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, কিংবদন্তি সাংবাদিক এবিএম মূসা
ছিলেন সত্যনিষ্ঠা, সাহস ও নৈতিকতার প্রতীক। অন্যায়ের সঙ্গে কখনো আপস না করে
তিনি আজীবন সত্যের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর কর্ম ও আদর্শ ভবিষ্যৎ
প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। একইসঙ্গে বাংলা বিভাগের
প্রাক্তন শিক্ষার্থী সেতারা মূসার স্মৃতিকে ধরে রাখতে প্রতিষ্ঠিত এই বৃত্তি
তহবিল একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উপাচার্য বলেন,
বৃত্তির আর্থিক মূল্য যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ এর
মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা, অধ্যবসায় ও সাফল্যের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। এ
ধরনের স্বীকৃতি শিক্ষার্থীদের আরও ভালো ফলাফল অর্জন, জ্ঞানচর্চা এবং
সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করে। তিনি বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের
অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তাদের এই অর্জন অন্য শিক্ষার্থীদেরও অনুপ্রাণিত
করবে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেবল পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক
শিক্ষা নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধ, সততা, দায়িত্ববোধ ও সামাজিক নেতৃত্ব গড়ে
তোলার ক্ষেত্র। শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের অবস্থান থেকে সমাজে ইতিবাচক
পরিবর্তন আনতে পারে, বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনে ভূমিকা
রাখতে পারে-সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
বৃত্তিপ্রাপ্ত
শিক্ষার্থীরা হলেন নাইম সিরাজ, ফাবিহা বুশরা প্রিয়ন্তি, তনুজা বিশ্বাস
প্রজ্ঞা, তাসনিয়া জাহান মুনমুন, নুসরাত জাহান সুবর্ণা, আনিকা তাবাসসুম,
সাবিকুন নাহার, আনিবা তাসনীম, আলপনা আক্তার, সালমা বেগম এবং আ. খালেক।
উল্লেখ্য,
এবিএম মূসা-সেতারা মূসা ফাউন্ডেশন বৃত্তি তহবিলের নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি
বছর বাংলা বিভাগে বি.এ. (সম্মান) পরীক্ষার বিভিন্ন বর্ষের ফলাফলের ভিত্তিতে
পরবর্তী শ্রেণিতে অধ্যয়নরত সর্বোচ্চ ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সিজিপিএ
অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির সুপারিশক্রমে এই বৃত্তি
প্রদান করা হয়। এম.এ. শ্রেণিতে অধ্যয়নরত সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জনকারী
শিক্ষার্থীকে এককালীন ২০,০০০ টাকা এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জনকারী
শিক্ষার্থী ১০,০০০ টাকা দেয়া হয়। এছাড়া ১ম, ২য় ও ৩য় বর্ষের ফলাফলের
ভিত্তিতে পরবর্তী বর্ষে অধ্যয়নরত সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জনকারী প্রত্যেককে
১৫,০০০ টাকা এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জনকারী প্রত্যেককে ১০,০০০
টাকা করে বৃত্তি দেয়া হয়।