নোয়াখালী প্রতিনিধি:
সারাদেশের
মতো টানা বর্ষণের প্রভাব পড়েছে নোয়াখালীতেও। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৪৫
মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। আর এতেই নোয়াখালী পৌরসভার জেলা শহর
মাইজদীর প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। সামান্য
বৃষ্টিতেই চরম দুর্ভোগে পড়ছেন পৌরসভার প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার বাসিন্দা।
বর্ষার শুরুতেই আগাম জলাবদ্ধতার এই চিত্র নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে
স্থানীয়দের মধ্যে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গত তিন দিনের বৃষ্টিতে পায়ের
গোড়ালি সমান পানি জমে যায় জেলা শহর মাইজদীর প্রধান সড়কের বিভিন্ন স্থানে,
পুলিশ লাইন্স রোড, হাউজিং রোড, সার্কিট হাউজ সংলগ্ন এলাকা, ফকিরপুর রোড,
পুরাতন জেলখানা সড়কসহ শহরের অধিকাংশ সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে যান
চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ,
ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীদের প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়
সালাউদ্দিন পিয়াস বলেন, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সড়কের তুলনায় উঁচু
ড্রেন, নিয়মিত পরিষ্কার ও সংস্কারের অভাব এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন
ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। কোটি টাকা ব্যয়ে
ড্রেন নির্মাণ করা হলেও অনেক স্থানে পানি ঠিকমতো নিষ্কাশন হয় না। এছাড়া
দীর্ঘদিন ধরে শহরের খালগুলো খনন ও পরিষ্কার না করায় বৃষ্টির পানি আটকে থাকে
এবং জলাবদ্ধতা আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সদর
হাসপাতাল সড়ক, পুরাতন জেলখানা সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই
জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বর্ষা মৌসুমেই ড্রেন নির্মাণ ও সংস্কারকাজ চলায় অনেক
সড়কের অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। ফলে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও।২০২৪-২৫
সালের ভয়াবহ বন্যার ক্ষত এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি নোয়াখালীবাসী।
এরই মধ্যে বর্ষার শুরুতেই শহরের বিভিন্ন সড়ক ও বাসাবাড়ির আশপাশে পানি জমে
নতুন করে আগাম জলাবদ্ধতার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে বর্ষা পুরোপুরি
শুরু হওয়ার আগেই নোয়াখালী পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থার কার্যকর সংস্কার,
শহরের খাল পুনঃখনন এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দাবি জানিয়েছেন
পৌরবাসী। তাদের আশা, দ্রুত স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হলে জলাবদ্ধতা ও সম্ভাব্য
বন্যার ঝুঁকি কমে জেলা শহর আবারও স্বাভাবিক ও বাসযোগ্য পরিবেশ ফিরে পাবে।
এ
বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের নোয়াখালীর উপপরিচালক ডা. মো. শেখ ছাদেক বলেন,
নোয়াখালী পৌরসভা একটি ঐতিহ্যবাহী এবং নিম্নাঞ্চলভিত্তিক পৌরসভা হওয়ায়
সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন স্থানে পানি জমে। জনদুর্ভোগ কমাতে পৌরসভা কাজ
করছে। গত অর্থবছরে জলাবদ্ধতা নিরসনে ৮টি খাল ও ৭টি ড্রেন পরিষ্কার করা
হয়েছে। তবে অনেক স্থানে আবর্জনা ফেলার কারণে ড্রেন বন্ধ হয়ে যায়। পৌরসভার
সক্ষমতা অনুযায়ী সমস্যাগুলোর সমাধানে কাজ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।