info@desherkhabor24.com

01923-772433

দাদির কবরের পাশে চির নিদ্রায় শায়িত হলেন যুক্তরাষ্ট্রে নিহত বৃষ্টি

Save
Link Copied!
দাদির কবরের পাশে চির নিদ্রায় শায়িত হলেন যুক্তরাষ্ট্রে নিহত বৃষ্টি

মাদারীপুর প্রতিনিধি:

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মাদারীপুরের মেয়ে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির (২৬) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (৯ মে) আসর বাদ মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে বৃষ্টির মরদেহ তার দাদির কবরের পাশে দাফন করা হয়। 
এর আগে শনিবার (৯ মে) বিকেল আসর বাদ স্থানীয় চর গোবিন্দপুর উত্তর কান্দি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বৃষ্টির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। নিহত বৃষ্টির জানাজার নামাজ পড়ান স্কুল মসজিদের ইমাম আবদুল রশিদ।
এতে অংশ নেন মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব সহ প্রায় দুই হাজার মানুষ।
শনিবার দুপুর ১ টা ১৫ মিনিটের দিকে বৃষ্টির মরদেহ বহনকারী ফ্রিজিং গাড়ি সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চরগোবিন্দপুর গ্রামে পৌঁছায়। এ সময় এক  শোকাবহ পরিবেশ তৈরি হয়। বৃষ্টির মরদেহ দেখতে ভিড় করেন আত্মীয়স্বজনসহ কয়েক এলাকার লোকজন।  
জানাযার পূর্বে বৃষ্টির বড় মামা বলেন, 'আমার ভাগ্নি খুব মেধাবী ছিল। অনেক আদর স্নেহ দিয়ে ওরে মানুষ করেছিলাম। আমাকে বলেছিল মামা, এখন আমি শুধু নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি, পিএইচডি কমপ্লিট হলে তোমরা আমাকে ডক্টর নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি বলবে। আজ সে ভাগ্নি আমার লাশ হয়ে দেশে ফিরল।'
কান্না জড়িত কন্ঠে বৃষ্টির বাবা জহিরুল ইসলাম বলেন, আমি আমার পৃথিবী হারিয়ে ফেলেছি। আমারে এই শূন্যতা আর কোনদিন পূরণ হবে না। আমার বৃষ্টি শুধু মেধাবী ছাত্রী ছিল না, সে ছিল গোটা দেশের একজন সম্পদ। 
মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াদিয়া শাবাব বৃষ্টির বাবা-মাকে সান্তনা দেয়ার পর বলেন, 'নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি ছিল আমাদের দেশের সম্পদ। যারা বিদেশে পড়াশোনা করতে যান তারা সকলেই পড়াশোনা শেষে দেশের জন্য ভালো কিছু করেন। তাঁর এই নির্মম হত্যাকাণ্ড দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা মাদারীপুর সদর উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক এই পরিবারের পাশে আছি।' 
উল্লেখ্য, নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) স্নাতকোত্তরে ভর্তি হন। পরে ফুল স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পিএইচডি করতে যান।
গত ১৭ এপ্রিল বৃষ্টি ও আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন নিখোঁজ হন। পরে তাদের হত্যার ঘটনা সামনে আসে। এ ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ।
স্বজন ও এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে।


Comments (0)

Please sign in to leave a comment.

Sign In

No comments yet. Be the first to comment!