info@desherkhabor24.com

01923-772433

ফ্লোরিডায় নিহত বৃষ্টির গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে চলছে শোকের মাতম

Save
Link Copied!
ফ্লোরিডায় নিহত বৃষ্টির গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে চলছে শোকের মাতম

কে এম, রাশেদ কামাল,মাদারীপুর প্রতিনিধি:

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে গিয়ে মাদারীপুরের মেয়ে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির হত্যাকাণ্ডের ঘটনার খবর পেয়ে তার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে আত্মীয়-স্বজনসহ এলাকার সাধারণ লোকজন ভীড় করছেন। 

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মেধাবী ছাত্রী বৃষ্টির মৃত্যুর খবরটি তারা কেউ মেনে নিতে পারছেন না। তারা অপরাধীদের শাস্তির দাবী জানিয়েছেন। 

নিহত নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দুপুরের এটিএম বাজার এলাকার জহির উদ্দিন আকনের মেয়ে। মা আলভী বেগম। বৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিয়ায় (ইউএসএফ) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পিএইচডি পড়ছিলেন। তিনি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী।

আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দুপুরের এটিএম বাজার এলাকার জহির উদ্দিন আকন বহু বছর ধরে ঢাকার মিরপুরে থাকেন। গ্রামের বাড়িতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও ঈদ-উল-আযহার সময় সবাই গ্রামের বাড়িতে আসতেন। মিড লাইফ ইন্সুরেন্সে ম্যানেজার পোষ্টে চাকুরী করেন বৃষ্টির বাবা। বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান ইঞ্জিনিয়ার। বৃষ্টিও ছিলেন প্রচন্ড মেধাবী। তাই উচ্চ শিক্ষা নেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। 

শনিবার সকালে তার পরিবার বৃষ্টির নিহতের খবর জানতে পারেন। এরপর তার গ্রামের বাড়িতে সেই খবর পৌছালে আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশি ভীর করেন। তাদের মধ্যে শোক নেমে আসে। তারা কেউ মেধাবী এই বৃষ্টির মারা যাওয়া কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। তাদের দাবী দ্রুত বৃষ্টির লাশ খুজে বের করে দেশে আনা হোক। পাশাপাশি অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।

বৃষ্টির চাচাতো বোন তুলি আকন বলেন, বৃষ্টি আপু অনেক মেধারী ছিলেন। অনেক ভালো ছিলেন। সকালে জাহিদ ভাইয়া (বৃষ্টি বড় ভাই) তার ফেসবুকে আপু মারা যাওয়া নিয়ে পোস্ট দেন, তা দেখে আমরা প্রথমে জানতে পারি। তবে এর আগে থেকেই আপু নিখোজ ছিলেন। কিভাবে, কেন তাকে হত্যা করা হলো, তা আমরা কিছুই জানিনা। তার এক সহপাঠীকেও হত্যা করা হয়েছে। শুনেছি তার লাশ পাওয়া গেছে। কিন্তু আপুর লাশ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।

নিহতের আরেক চাচাতো বোন ফজিলা আক্তার বলেন, আমরা কিছুই এই মৃত্যু মেনে নিতে পারছিনা। আমরা অপরাধীদের শাস্তি চাই। আর বৃষ্টির লাশ দেশে আনার দাবী জানাই।

নিহত বৃষ্টির চাচা দানিয়াল আকন বলেন, বৃষ্টি অনেক মেধাবী ছিলো। সে বেচে থাকলে হয়তো দেশের জন্য ভালো কিছু করতে পারতো। কিন্তু তার আগেই তাকে হত্যা করা হলো। আমরা এই হত্যার বিচার চাই। 

তিনি আরো বলেন, আমার মেয়ে আর বেঁচে নেই। এটা নিশ্চিত হয়েছি। তার মরদেহ উদ্ধার করে দেশে আনার দাবি জানাই। দোষীদের শাস্তি চাই।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আল নোমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বৃষ্টির নিহতের ঘটনাটি আমরা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছি। নিহতের পরিবার থেকে এখনো আমাদের সাথে যোগাযোগ করে নি। পরিবার যদি লাশ আনার ব্যাপারে সহযোগিতা চায় তাহলে আমরা তাদের সার্বিক সহযোগিতা করবো।

Comments (0)

Please sign in to leave a comment.

Sign In

No comments yet. Be the first to comment!