info@desherkhabor24.com

01923-772433

যশোরে পার্কিং করা বাসে অগ্নিসংযোগ: রাজনৈতিক বিরোধ, নাকি নাশকতা তদন্তে একাধিক প্রশ্ন

Save
Link Copied!
যশোরে পার্কিং করা বাসে অগ্নিসংযোগ: রাজনৈতিক বিরোধ, নাকি নাশকতা তদন্তে একাধিক প্রশ্ন

শাহারুল ইসলাম ফারদিন,যশোর প্রতিনিধি:
যশোর শহরের বাহাদুরপুরের নিমতলা এলাকায় পার্কিং করে রাখা একটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক একটার দিকে ঢাকা মেট্রো-ব-১৪২০৯৮ নম্বরের বাসটিতে আগুন লাগে। এতে বাসটির ভেতরের অধিকাংশ অংশ ও মালামাল পুড়ে যায়। পাশে রাখা আরেকটি বাসও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা দেখে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।

বাসটির মালিক আবু বক্কর সিদ্দিকি বেলাল দাবি করেন, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়। তিনি জানান, তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনের সময় বাসটি দলীয় বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল। তার ভাষ্য, ভোটের সময় বাসটি সক্রিয়ভাবে ব্যবহার হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এটি করা হয়ে থাকতে পারে। ঘটনাস্থলে এসে তিনি বাসের ভেতরের আসন, কাগজপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ার চিত্র দেখেছেন বলে জানান।

এ ঘটনার পর স্থানীয় বিএনপি নেতারা সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দায়ী করেছেন। নেতা রুহুল হোসেন অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ ও জামায়াত সমর্থকরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ অগ্নিসংযোগ করেছে। তাদের দাবি, ঘটনাটি পরিকল্পিত এবং এর সঙ্গে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য জড়িত। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগের বিপরীতে এখনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সামনে আসেনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, রাতেই পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তার ভাষ্য, এটি পরিকল্পিতভাবে আগুন দেওয়া হয়েছে, নাকি অসাবধানতাবশত সিগারেট বা কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাসটি দীর্ঘ সময় ধরে ওই এলাকায় পার্কিং করা ছিল। আশপাশে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল কি না, তা নিয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। আগুন লাগার আগে এলাকায় সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তির উপস্থিতি ছিল কি না, সে বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ।

রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই অগ্নিকাণ্ড নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এটি যদি সত্যিই পরিকল্পিত নাশকতা হয়ে থাকে, তবে তা শুধু একটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা নয়, বরং নির্বাচন-পরবর্তী বিরোধের ইঙ্গিতও বহন করতে পারে। আবার যদি এটি দুর্ঘটনাজনিত হয়, তবে রাজনৈতিক অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

সব মিলিয়ে, ঘটনাটি এখন তদন্তের পর্যায়ে। কারও অভিযোগ, কারও পাল্টা অভিযোগের মাঝখানে মূল প্রশ্নটি একটাই এ আগুনের পেছনে কে বা কী? সেই উত্তরই এখন খুঁজছে পুলিশ।

Comments (0)

Please sign in to leave a comment.

Sign In

No comments yet. Be the first to comment!