01923-772433

info@desherkhabor24.com

ভোলার বেশীরভাগ ডায়াগনস্টিক সেন্টারই অনুমোদনহীন

Save
Link Copied!
ভোলার বেশীরভাগ ডায়াগনস্টিক সেন্টারই অনুমোদনহীন

সাব্বির আলম বাবু, ভোলা প্রতিনিধিঃ 

বৈধ অনুমোদনহীন দ্বীপজেলা ভোলার বেশীরভাগ ডায়াগনস্টিক ও বেসরকারি হাসপাতাল। জেলায় মোট ১৪৫টি বে-সরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনেষ্টিক সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বৈধ কোন কাগজপত্র নেই। অনুমোদন না পেয়েও বছরের পর বছর চলছে সেবা কার্যক্রম। এছাড়া অধিকাংশ হাসপাতাল ও ডায়াগনেষ্টিকের লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি গত চার-পাঁচ বছর যাবত। এদিকে দুই একটি হাসপাতালে একজন করে আবাসিক ডাক্তার থাকলেও বাকিগুলোতে নেই কোন স্থায়ী আবাসিক চিকিৎসক, এনেস্থেসিয়া ও সনোলজিস্ট ডাক্তার, নেই তেমন কোনো ডিপ্লোমা রেজিষ্টার নার্স, টেকনোলজিস্ট, প্যাথলজিস্ট ও রেডিওলজিস্ট এবং পর্যাপ্ত আধুনিক যন্ত্রপাতি। অভিযোগ রয়েছে টেস্টের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়, রোগী হয়রানিসহ নানাবিদ অনিয়মের। বছরের পর বছর এসব বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে চিকিৎসা সেবার নামে ভুল বা অপচিকিৎসা দিচ্ছে। অথচ চিকিৎসার নামে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোন কার্যকরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়না। মাঝে মধ্যে নাম মাত্র দুই একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান দিয়ে সামান্য জরিমানা করেই দায়িত্ব শেষ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বাকিগুলোর আর বছরের পর বছর অভিযানের খোঁজ খবর থাকে না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বৈধ কাগজপত্র না থাকায় পদ্মা ক্লিনিক, যমুনা ডায়াগনস্টিক, ইবনে সিনা ক্লিনিক, জয়নাল আবেদীন ডায়াগনস্টিক, বন্ধন ক্লিনিক, আস-সুন্নাহ হাসপাতালসহ মোট ১২টি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন সময় জরিমানা করা হয়েছে। আবার কয়েকটি সিলগালাও করা হয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক ভাবে কিছুদিন পর আবারও সেগুলো আগের মতই চালু হয়ে যায়। বেশ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, মোহনা ডায়াগনস্টিক এন্ড হাসপাতাল, নিউ লাইফ ডায়াগানেষ্টিক সেন্টার, আল-আকসা হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক, হাবিব মেডিকেল সেন্টার, ইউনিটি ডায়াগনস্টিক এন্ড হাসপাতাল, ফাতেমা মেমোরিয়াল হাসপাতালসহ আরও দুই তিনটিতে কিছু সংখ্যক আবাসিক চিকিৎসক রয়েছেন। বাকিগুলোতে কাগজে কলমে থাকলেও বাস্তবে কোনো আবাসিক চিকিৎসক নেই। রোগীর প্রয়োজেন ধার করে ডাক্তারদেরকে ডেকে এনে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এতে অসহায় রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়। এদিকে ১৪৫টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন ডিপ্লোমাধারী নার্স রয়েছেন। তাও আবার রেজিস্টার্ড নার্স রয়েছেন কি না তা কেউ জানে না। প্রায় সবগুলো হাসপাতাল ও ক্লিনিকে আয়া থেকে নার্স হয়েছেন এমন নার্সের সংখ্যাই বেশি। তাদের কোন একাডেমিক সনদ নেই। দীর্ঘদিন কাজ করতে করতে অর্জিত অভিজ্ঞতা থেকে তারা এখন নার্সের দায়িত্ব পালন করছেন বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। যার কারণে প্রসূতি মা এবং নবজাতকের মৃত্যু হয় কিছুদিন পরপর। জানা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ১০ শয্যার একটি হাসপাতাল চালু করতে হলে তিনজন আবাসিক চিকিৎসক, ১ জন এনেস্থেসিয়া, ছয় জন রেজিস্টার্ড নার্স প্রয়োজন। এছাড়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তিন জন ল্যাব টেকনোলোজিস্ট, দুইজন ল্যাব টেকনেশিয়ান, একজন টেকনোলজিস্ট (এক্স-রে), একজন করে রেডিওলজিস্ট ও একজন প্যাথলজিস্ট ডাক্তার থাকা প্রয়োজন এবং তিনজন ক্লিনার থাকা প্রয়োজন। কাগজে কলমে এসব জনবল দেখানো হলেও বাস্তবে এর কিছুই নেই এবং যুগ যুগ ধরে এ ব্যাপারে প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে দাবি স্থানীয় জনগনের। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, ভোলা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালে যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় রোগীরা বে-সরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করে উন্নত চিকিৎসা নিতে যায়। সেখানে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় হয় ঠিকই কিন্তু কাঙ্খিত চিকিৎসা সেবা পাওয়া যায়না। অভিযোগ রয়েছে জেলায় ১৪৫টি বে-সরকারি হাসপাতাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক থাকলেও একজনও ডিপ্লোমা এনেস্থেসিয়া ডাক্তার নেই। অনেক সার্জন দাবি করে এনেস্থেসিয়া ডাক্তারের ভূল প্রসিডিউরের কারণে অপারেশনের সময় অনেক রোগী মারা যায়। যার কারণে আমারও অনেক বিড়ম্বনায় পড়ি। এছাড়াও নেই ডিপ্লোমা সনদপ্রাপ্ত কোন সনোলোজিস্ট ডাক্তার। ফলে অনেক সময়ই ভুল আল্ট্রা-সনোগ্রামের রেজাল্টের কারণে রোগীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও ভূল অপারেশন হয়ে থাকে। এসব বিষয়ে ভোলার সিভিল সার্জন ডাক্তার মু. মনিরুল ইসলাম জানান, জেলায় ১২টি প্রতিষ্ঠানের বৈধ কাগজপত্র নেই। তাছাড়া অনেকগুলোর লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। কিছুদিন আগে জেলা প্রশাসকের মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দুটি প্রতিষ্ঠান আস-সুন্নাহ হাসপাতাল ও যমুনা ডায়াগনেস্টিকের কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা করে জরিমানা আদায় করা হয়। তিনি আরও জানান, অবৈধ এসব হাসপাতাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোবাইল কোর্ট বসানো হলে সিভিল সার্জন অফিস সার্বিক সহায়তা করে থাকেন।

Comments (0)

Please sign in to leave a comment.

Sign In

No comments yet. Be the first to comment!