ঢাবি প্রতিনিধি:
ঐতিহাসিক
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ে মাসব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে
গতকাল ১৭ জুলাই ২০২৬ শুক্রবার রাত ৮টায় বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে মোমবাতি
প্রজ্বলন ও দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশনের আয়োজন করা হয়। ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই
এই হলের শিক্ষার্থীরা মোমবাতি প্রজ্বলনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের
বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিলো। এছাড়া, বিভিন্ন হল, অনুষদ ও বিভাগ নিজ নিজ
কর্মসূচি পালন করছে।
উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয়
বার্ষিকী উদযাপনের কর্মসূচি প্রণয়নের লক্ষ্যে এক সভা সম্প্রতি অধ্যাপক
আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সভায় সভিপতিত্ব করেন।
প্রো-ভাইস
চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, বিভিন্ন
অনুষদের ডিন, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, প্রক্টর, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার,
অফিস প্রধানগণ এবং ডাকসু ও ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভার
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিবছর ১৪ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘জুলাই
উইমেন্স ডে’ উদযাপন করা হবে এবং এটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যালেন্ডারে
অন্তর্ভুক্ত করা হবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণে ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ’ নির্মাণ করা হবে। আগামী ০৫ আগস্ট
২০২৬ তারিখ ‘জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।
এলক্ষ্যে চারুকলা অনুষদের ডিনকে আহ্বায়ক ও প্রক্টরকে সদস্য-সচিব করে একটি
কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যগণ হলেন- প্রধান প্রকৌশলী, এস্টেট
ম্যানেজার এবং গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগের প্রভাষক।
এছাড়া,
জুলাই-গণঅভ্যুত্থান স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে একটি
‘জুলাই কর্নার’ স্থাপন করা হবে। যেখানে জুলাই আন্দোলনে শহিদদের ব্যবহৃত
কাপড় ও অন্যান্য সামগ্রী, ভিডিও চিত্র, স্থির চিত্র ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক
বিষয় সংরক্ষিত থাকবে। এলক্ষ্যে চারুকলা অনুষদের ডিনকে আহ্বায়ক ও
গ্রন্থাগারিককে সদস্য-সচিব করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যগণ
হলেন- গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগের অধ্যাপক রেজা আসাদ আল হুদা অনুপম, গ্রাফিক
ডিজাইন বিভাগের প্রভাষক মীর মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন আলী এবং
বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট ম্যানেজার।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান উপলক্ষ্যে আগামী
০৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখ সকাল ১১:০০ টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে একটি
আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল
জামিয়া’য় বাদ আছর মিলাদ ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হবে।
জুলাই বিপ্লব
ও ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান বিষয়ে প্রতিটি অনুষদ/হল/বিভাগ/ইনস্টিটিউট
নিজস্ব উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনায় জুলাই মাসব্যাপী স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা
সভা/সেমিনার/কর্মসূচি গ্রহণ করবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পয়েন্টে
ডিসপ্লে স্থাপন করে ০৫ আগস্ট পর্যন্ত জুলাই আন্দোলনের ডকুমেন্টরি
প্রদর্শনীর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এছাড়া, জুলাই আন্দোলনে সম্পৃক্ত
ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের উপযুক্ত প্রমাণ সাপেক্ষে স্বীকৃতি
প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেয়ালে
অঙ্কিত জুলাই গ্রাফিতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে পুনরায় রংকরণ করা হবে। চারুকলা
অনুষদের ডিন, প্রক্টর এবং আরবরি কালচার সেন্টারের পরিচালক সমন্বয় করে এ
বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
জুলাই আন্দোলনে বিভিন্নভাবে
সম্পৃক্ত ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি স্মরণিকা
প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে
লেখা যাচাই-বাছাইপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জুলাই
গণ-অভ্যুত্থান যারা ধারণ করেনা ও পতিত সরকারের দোসর এবং জুলাই আন্দোলনে
বিভিন্নভাবে ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল, তাদেরকে কোনভাবেই
দিবসটি উদযাপন উপলক্ষ্যে গৃহীত কোন কর্মকান্ডে/কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত না করার
ব্যাপারে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যেসকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও
কর্মচারী আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং বিগত ১৭ বছর
ফ্যাসিস্টদের দোসর হিসেবে কাজ করেছিলেন-যথাযথ প্রমাণ সাপেক্ষে তাদের বিচার
নিশ্চিত করার ব্যাপারে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।