01923-772433

info@desherkhabor24.com

পরিবেশ সুরক্ষায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কার্যকর অবদান রাখতে পারেন -ডাঃ জুবাইদা রহমান

Save
Link Copied!
পরিবেশ সুরক্ষায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কার্যকর অবদান রাখতে পারেন -ডাঃ জুবাইদা রহমান

ঢাবি প্রতিনিধি:

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ এবং ‘ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে বিজ্ঞান মেলা’ শীর্ষক কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডাঃ জুবাইদা রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে আজ ১০ জুন ২০২৬ বুধবার কার্জন হল চত্বরে নিম গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে মাসব্যাপী এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সেন্ট্রাল গ্যালারিতে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
 
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং সাবেক উপাচার্য ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবাষিকী পালন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান। এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী-সহ প্রক্টর, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পরিচালকবৃন্দ এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
 
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডাঃ জুবাইদা রহমান বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং দেশের বিভিন্ন সমস্যার বৈজ্ঞানিক সমাধান বের করার ক্ষেত্রে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা কার্যকর অবদান রাখতে পারেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বর্তমান পৃথিবীকে আরও সুন্দর, সবুজ ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণকে গতানুগতিক কর্মসূচির মধ্যে না রেখে জনগণের অংশগ্রহণে এটিকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের এক সবুজ বিপ্লবে রূপান্তর করতে হবে। এলক্ষ্যে তিনি সবুজ স্বেচ্ছাসেবা, ক্লাইমেট ইউথ ফেলোশিপ এবং পরিবেশ স্টার্টআপ তহবিল গঠনের উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে স্কুল পাঠ্যক্রমে সবুজ স্বেচ্ছাসেবা সংযুক্ত করতে হবে। বিজ্ঞান মনস্ক প্রজন্ম গড়ে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বিজ্ঞানের অভিনব উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের মানুষের কষ্ট লাঘব করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
 
  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি ও জাতীয় উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এলক্ষ্যে সরকার আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। যা পরিবেশ  ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ‘ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে বিজ্ঞান মেলা’ কর্মসূচি পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি ও বিজ্ঞান মনস্ক জাতি গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে  বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
 
সাবেক উপাচার্য ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার বলেন, আমরা এমন একসময় দাঁড়িয়ে আছি, যখন জলবায়ু পরিবর্তন মানব সভ্যতার অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, অতিবৃষ্টি, নদী ভাঙ্গন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ এই সংকটের সম্মুখ সারির উদ্বিগ্ন দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। এপ্রেক্ষাপটে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি কেবল একটি পরিবেশগত কর্মসূচি নয়, বরং এটি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান বলেন, বৃক্ষরোপণ ও বনায়ন একটি জাতীয় দায়িত্ব। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কন্ঠে সেই দায়িত্বের দর্শন সর্বপ্রথম উচ্চারিত হয়েছিল। ১৯৭৮ সালে যখন জলবায়ু পরিবর্তন শব্দটি বৈশ্বিক আলোচনায় আসেনি, তখন জিয়াউর রহমান বৃক্ষরোপণকে জাতীয় কর্মসূচি হিসেবে স্বীকৃতি দেন।



Comments (0)

Please sign in to leave a comment.

Sign In

No comments yet. Be the first to comment!