01923-772433

info@desherkhabor24.com

ঢাবির মেডিকেল সেন্টারের সংস্কার ও আধুনিকায়নের উদ্বোধন

Save
Link Copied!
ঢাবির মেডিকেল সেন্টারের সংস্কার ও আধুনিকায়নের উদ্বোধন

ঢাবি প্রতিনিধি:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারের সংস্কারকৃত ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আজ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বুধবার বিকাল ৩টায় মেডিকেল সেন্টার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। তুর্কি কো-অপারেশন অ্যান্ড কোঅর্ডিনেশন এজেন্সি (টিকা)-এর সহযোগিতায় সেন্টারটি সংস্কার করা হয়েছে এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামও উন্মোচন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। প্রধান অতিথি ছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের পুত্র নেসমেত্তিন বিলাল এরদোগান (Necmettin Bilal ERDOGAN) । বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, টিকার প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ এরেন (Abdullah Eren), বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত এইচ.ই. রামিস সেন (Ramis Sen), ফুটবল তারকা মেসুত ওজিল এবং ডাকসুর সহ-সভাপতি সাদিক কায়েম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউট পরিচালক, প্রধান মেডিকেল অফিসার, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ছাত্র প্রতিনিধিবৃন্দ। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, তুরস্ক ও বাংলাদেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের এক উজ্জ্বল প্রতিফলন হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারের সংস্কার ও আধুনিকায়ন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং ভবিষ্যতে যৌথ কার্যক্রম সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, টিকা মেডিকেল সেন্টারের পূর্ণাঙ্গ সংস্কার কাজ সম্পন্ন করেছে। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবে। তিনি টিকার অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, টিকা শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই করেনি, বরং একটি অ্যাটমিক ফোর্স মাইক্রোস্কোপ, অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, উন্নতমানের এক্স-রে মেশিন এবং আইসিইউ সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্স প্রদান করেছে। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা সেবাকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করবে। উপাচার্য বলেন, তুরস্ক ও বাংলাদেশের বন্ধুত্বের ইতিহাস শতাব্দীপ্রাচীন এবং এই সহযোগিতা সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বহন করছে।

স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, এই মেডিকেল সেন্টারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী, ২ হাজার শিক্ষক এবং ৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে থাকে। ফলে এই কেন্দ্রের ওপর বিপুলসংখ্যক মানুষের নির্ভরশীলতা রয়েছে এবং সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে চাহিদা ও প্রত্যাশা উভয়ই অনেক বেশি।

তিনি বলেন, সীমিত বাজেট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে সব সময় প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা প্রদান করা সম্ভব হয় না। এ প্রেক্ষাপটে টিকার সহযোগিতায় মেডিকেল সেন্টারের ভবন সংস্কার, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রদান এবং অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের পুত্র নেসমেত্তিন বিলাল এরদোয়ান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং এখান থেকেই দেশের আগামী দিনের নেতৃত্ব গড়ে উঠছে।

তিনি বলেন, তুরস্ক ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়ন প্রকল্প এ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার একটি প্রতীক।

তিনি আরও বলেন, তুরস্ক বাংলাদেশের সঙ্গে শিক্ষা, গবেষণা ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও তুরস্কের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি সাদিক কায়েম বলেন, তুরস্ক ও বাংলাদেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন দীর্ঘদিনের এবং টিকার সহযোগিতা এ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করেছে। তিনি বলেন, বিলাল এরদোয়ানের উপস্থিতি দুই দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের আধুনিকায়নে তুরস্ক সরকার ও টিকার সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এবং শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে বিশেষ করে কওমী শিক্ষা উন্নয়নে তুরস্কের সহায়তা সম্প্রসারিত হবে।

Comments (0)

Please sign in to leave a comment.

Sign In

No comments yet. Be the first to comment!