01923-772433

[email protected]

ধূমপানমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে ঢাবিতে মতবিনিময় সভা

Save
Link Copied!
ধূমপানমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে ঢাবিতে মতবিনিময় সভা

ঢিাবি প্রতিনিধি:
তামাক ও ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে তামাক ও ধূমপানমুক্ত ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘তামাক ও ধূমপানমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনগত বাধ্যবাধকতা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি ও ডর্প (DORP)-এর যৌথ উদ্যোগে আজ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী কলা ভবনের সভাকক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মো. মানজুর হোছাঈনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন ডর্পের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও এএইচএম নোমান। অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডর্পের প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর জেবা আফরোজ। আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সিটিএফকে বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. আব্দুস সালাম মিয়া এবং ডর্পের উপদেষ্টা ও অবসরপ্রাপ্ত সচিব মো. আজহার আলী তালুকদার। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, তামাক ও ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে তরুণ প্রজন্মকে সুরক্ষা দিতে সচেতনতার পাশাপাশি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তামাকবিরোধী জনসচেতনতা সৃষ্টিতেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে পারেন।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে তা দেশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও তরুণ সমাজের মধ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তামাকমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তোলার উদ্যোগকে শুধু আলোচনা সভার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনার দিকে এগিয়ে নিতে হবে।
প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দোকানে তামাকজাত পণ্য বিক্রি হচ্ছে কি না, তা কার্যকরভাবে নজরদারি করা প্রয়োজন। তামাকজাত পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অনুমোদন বা অনুমতির বিষয় থাকলে তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে তামাকবিরোধী লিফলেট, পোস্টার ও স্টিকার প্রদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, তরুণদের মধ্যে তামাক ও ধূমপানের ব্যবহার কমাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাবনা দেওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
সভায় বক্তারা তামাক ও ধূমপানের কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি, তামাক নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান, ক্যাম্পাসে তামাকজাত পণ্যের বিক্রয় নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তামাক নিয়ন্ত্রণে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। বক্তারা তামাকমুক্ত শিক্ষাঙ্গন নিশ্চিত করতে আইন ও নীতিমালার কার্যকর প্রয়োগের পাশাপাশি নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

Comments (0)

Please sign in to leave a comment.

Sign In

No comments yet. Be the first to comment!