info@desherkhabor24.com

01923-772433

ফরিদপুর মেডিকেলে কক্লিয়ার ইমপ্ল্যাট চিকিৎসা সম্পন্ন শ্রবণ শক্তি ফিরে পাবে ৬ বধির শিশু

Save
Link Copied!
ফরিদপুর মেডিকেলে কক্লিয়ার ইমপ্ল্যাট চিকিৎসা সম্পন্ন শ্রবণ শক্তি ফিরে পাবে ৬ বধির শিশু

মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর :

এক দশক আগেও দেশে বধিরতায় ভোগা মানুষের জন্য ‘কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট’ চিকিৎসা প্রচলিত ছিল না। অনেকে তখন বিদেশে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকায় এ চিকিৎসা করাতেন। এখন অবশ্য দেশেই ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকায় তা সম্ভব। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নামমাত্র টাকায় এ চিকিৎসা করা যাচ্ছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট চিকিৎসা করা হয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এর ফলে সম্পূর্ণ শ্রবণপ্রতিবন্ধী বা জন্মগত মূক ও বধির শিশুরা এখন কানেও শুনবে, কথাও বলতে পারবে। গত ২৬ ,২৭ ও ২৯ তারিখে ভোলা জেলার তিন বছর ১০ মাসের ছোট শিশু ওমর ফারুক, বরিশাল জেলার তিন বছর আট মাস বয়সের শিশু হাফিজা, কুষ্টিয়া জেলার তিন বছর ১০ মাস বয়সের আদিবা, বরিশাল জেলার চার বছর ৮ মাস বয়সের শিশু আলিফ খান, নওগাঁ জেলার চার বছর ৭ মাস বয়সী শিশু রিয়াজ হাসান ও মুন্সিগঞ্জ জেলার তিন বছর ১০ মাস বয়সের শাহেল ইসলাম এই ৬ জন জন্মগতভাবে বধির শিশুদের কানে ইমপ্ল্যান্ট অস্ত্রোপচার করা হয়।

হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের প্রধান ও হেড-নেক সার্জারি বিভাগের প্রকল্প পরিচালক (কক্লিয়ার ইমপ্ল্যাট) অধ্যাপক ডাঃ নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট হচ্ছে একটি আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন চিকিৎসাপদ্ধতি। দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুর কানে ইলেকট্রনিক ডিভাইস লাগিয়ে এ চিকিৎসা করে থাকেন।

জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে ২ হাজার ৬০০ শিশু বধির হয়ে জন্ম নেয় উল্লেখ করে চিকিৎসক ডাঃ নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, ফরিদপুরে এই চিকিৎসাব্যবস্থা চালু হওয়ায় জন্ম থেকে কানে না শোনা এবং কথা বলতে না পারা শিশুদের চিকিৎসায় একটা নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যা মারাত্মক বা সম্পূর্ণ শ্রবণপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে শব্দ শুনতে সহায়তা করে। এটা বায়োনিক কান নামেও পরিচিত। এটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অন্তঃকর্ণের কক্লিয়ায় স্থাপন করা হয়। এর দুটি অংশ। বাইরের অংশে মাইক্রোফোন, স্পিস প্রসেসর ও ট্রান্সমিটার কয়েল থা। ভেতরের অংশে রিসিভার স্টিমুলেটর ও ইলেকট্রেড থাকে।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট) বিশেষজ্ঞ লেফটেন্যান্ট কর্নেল ডাঃ ইফতেখারুল আলম, নাক কান গলার বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাঃ নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক ডাঃ এস এম ফয়সাল সিজন, জুনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ এটিএম সুমাইয়েফ-উর রহমান (সৈকত) সহ বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের চিকিৎসকগণ উপস্থিত থেকে এই চিকিৎসা সম্পন্ন করেন।

Comments (0)

Please sign in to leave a comment.

Sign In

No comments yet. Be the first to comment!