ঢাবি প্রতিনিধি:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামের নেতৃত্বে ৬-সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল জাপানে অনুষ্ঠিত ‘রাসায়নিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় ওয়ান হেলথ পদ্ধতি’ বিষয়ক জেএসপিএস কোর-টু-কোর সিম্পোজিয়ামে অংশগ্রহণ করেছে। সিম্পোজিয়ামটি ২০২৬ সালের ৬ থেকে ৮ অক্টোবর এহিমে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবীর, মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ মামুন চৌধুরী, একই বিভাগের অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন ও ড. মো. হাবিবুল্লাহ-আল-মামুন এবং সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান গভর্নেন্স-এর পরিচালক ড. কে এম আজম চৌধুরী।
এহিমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর মেরিন এনভায়রনমেন্টাল স্টাডিজ এই সিম্পোজিয়াম আয়োজন করে। সিম্পোজিয়ামের সহ-আয়োজক ছিলো- ‘লিডিং একাডেমিয়া ইন মেরিন অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট পলিউশন রিসার্চ’। জাপান সোসাইটি ফর দ্য প্রমোশন অফ সায়েন্স-এর সহায়তায় এটি আয়োজন করা হয়। সিএমইএস এর উপ-পরিচালক ও ‘অফিস ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সোশ্যাল কো-অপারেশন’-এর প্রধান অধ্যাপক ড. কোজো ওয়াতানাবে এই কর্মসূচির উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং সভাপতিত্ব করেন। বাংলাদেশ, জাপান, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, মোজাম্বিক ও অন্যান্য দেশের গবেষকরা মৌখিক ও পোস্টার উপস্থাপনা সেশন এবং প্লেনারি ও বিশেষ আলোচনা পর্বে অংশ নেন। কর্মসূচিতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় টেকসই উন্নয়নের গবেষণার দিকগুলোর ওপর আলোকপাত করা হয়; বিশেষ করে জনস্বাস্থ্য ও জীবিকা সুরক্ষার পাশাপাশি চিকিৎসা, কৃষি, মৎস্যচাষ ও পশুপালনে ব্যবহৃত রাসায়নিকের পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের ওপর প্রভাব কমানোর বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রথম মৌখিক উপস্থাপনা সেশনে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম বাংলাদেশে বায়ুর গুণমান পরিস্থিতি—এর প্রকৃতি, উৎস এবং মানবস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব—বিষয়ে একটি উপস্থাপনা প্রদান করেন। এছাড়া অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবীর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় রাসায়নিক গুদাম থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বিষয়ক একটি পোস্টার উপস্থাপন করেন। অধ্যাপক মোহাম্মদ মামুন চৌধুরী বাংলাদেশে পাঙ্গাস মাছের বৃদ্ধিতে খাদ্যতালিকাগত সেলেনিয়াম এবং জিঙ্ক ন্যানো-পার্টিকেলের প্রভাব বিষয়ক একটি পোস্টার উপস্থাপন করেন। অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বাংলাদেশের জলজ পরিবেশে অ্যান্টিবায়োটিক দূষণ ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (অণুজীবের ওষুধ-প্রতিরোধ ক্ষমতা) এবং এর ঝুঁকি হ্রাসের কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। ড. কে এম আজম চৌধুরী একটি মডেল ও পর্যবেক্ষণ-ভিত্তিক যৌথ গবেষণার ওপর ভিত্তি করে উত্তর বঙ্গোপসাগরে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রার ঋতুভিত্তিক পরিবর্তন এবং ‘অক্সিজেন মিনিমাম জোন’ (অক্সিজেনের সর্বনিম্ন মাত্রার অঞ্চল) সংক্রান্ত একটি পোস্টার উপস্থাপন করেন।
৮ অক্টোবর সিম্পোজিয়ামের পাশাপাশি, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামের নেতৃত্বে ICOG এবং CMES -এর মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। CMES -এর প্রতিনিধিত্ব করেন অধ্যাপক ড. জিনইউ গুও। এতে CMES -এর পরিচালক অধ্যাপক ড. আকিহিকো মরিমোতোও অংশগ্রহণ করেন। ICOG -এর গবেষণা কার্যক্রম তুলে ধরেন এর পরিচালক ড. কে এম আজম চৌধুরী। বৈঠকে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) সমুদ্র বিষয়ক গবেষণা, মডেলিং এবং পূর্বাভাস কার্যক্রম জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং এসব ক্ষেত্রে CMES -এর সঙ্গে সহযোগিতার আশা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের ব্লু-ইকোনমি বা নীল অর্থনীতির বিকাশে CMES -এর ‘ফিজিক্যাল-ইকোসিস্টেম অ্যান্ড পলিউশন কাপলিং মডেল’ (ভৌত পরিবেশ-বাস্তুতন্ত্র ও দূষণ মিথস্ক্রিয়া বিষয়ক মডেল) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; একইভাবে দেশের সামুদ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অধ্যাপক মরিমোতোর গবেষণাও অত্যন্ত মূল্যবান।
বৈঠককালে উভয় পক্ষ ক্রেস্ট বিনিময় করে এবং ভবিষ্যতে একাডেমিক আদান-প্রদান ও যৌথ গবেষণার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করে। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং এহিমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে শিগগিরই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করে যে, এই চুক্তি সামুদ্রিক বিজ্ঞান, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে যৌথ গবেষণা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময় এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির নতুন পথ উন্মোচন করবে।