01923-772433

[email protected]

ঢাবিতে জাপান টেক ইন্টার্নশিপ ক্যারিয়ার ইভেন্ট অনুষ্ঠিত

Save
Link Copied!
ঢাবিতে জাপান টেক ইন্টার্নশিপ ক্যারিয়ার ইভেন্ট অনুষ্ঠিত

ঢাবি প্রতিনিধি:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে ‘গ্লোবাল সাউথ-জাপান টেক ট্যালেন্ট ইন্টার্নশিপ’ বিষয়ক অন-ক্যাম্পাস ক্যারিয়ার ইভেন্ট গতকাল ৫ অক্টোবর ২০২৬ সোমবার অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জাপানের আটটি কোম্পানির সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়, যাতে তারা প্রযুক্তি-বিষয়ক ইন্টার্নশিপ, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সুযোগগুলো সম্পর্কে জানতে পারে।
GS-JTI সচিবালয়, ডেলয়েট তোহমাতসু ভেঞ্চার সাপোর্ট ও কোয়েই রিসার্চ অ্যান্ড কনসাল্টিং-এর সহায়তায় জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এই কর্মসূচি আয়োজন করে। এর লক্ষ্য হলো ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা উন্নয়নশীল অঞ্চলের উদীয়মান প্রযুক্তি-প্রতিভাদের সঙ্গে জাপানি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংযোগ স্থাপন করা, যারা প্রকৌশল ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল এবং নতুন দৃষ্টিভঙ্গির সন্ধানে রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. উপমা কবির অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।  GS-JTI সচিবালয়ের মি. তাতসুয়া ইয়ামাদা কর্মসূচির সার্বিক পরিচিতি এবং জাপানে কাজ করার আকর্ষণীয় দিকগুলো তুলে ধরেন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মামুনুর রশিদ।
অনুষ্ঠানে জাপানের আটটি কোম্পানি অংশগ্রহণ করে। কোম্পানিগুলো হলো—অ্যাডোরো ইনকর্পোরেটেড, এ-ওয়ান রোড কোং লিমিটেড, অ্যাস্টার কোং লিমিটেড, এডব্লিউএল ইনকর্পোরেটেড, ক্যাপার ইনকর্পোরেটেড, গ্রিন কার্বন ইনকর্পোরেটেড, জাপান সুপারকন্ডাক্টিভিটি অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট ইনকর্পোরেটেড এবং নোয়াহলজি কোং লিমিটেড। তাদের বিস্তৃত কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে এআই অ্যাপ্লিকেশন ও অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তা, উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থা, দুর্যোগ সহনশীলতা, এজ এআই ও কম্পিউটার ভিশন, লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল প্ল্যাটফর্ম, কার্বন প্রকল্প ও টেকসই উন্নয়ন, সুপারকন্ডাক্টিং প্রযুক্তি এবং জাহাজ নির্মাণে এআই-এর ব্যবহার।
ইভেন্টটি কোম্পানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য যোগাযোগের সুযোগ, ইন্টার্নশিপের ভূমিকা ও আবেদনের শর্তাবলি সম্পর্কে তথ্য এবং জাপানি কর্মপরিবেশ সম্পর্কে ধারণা লাভের সুযোগ করে দেয়। ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে অর্জিত জ্ঞানকে শিল্প-সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে প্রয়োগ, পেশাগত যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক দলের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পায়। অংশগ্রহণকারী কয়েকটি কোম্পানি জানায় যে, তাদের নিজস্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ব্যবসায়িক চাহিদার সাপেক্ষে ভালো ফলাফলকারী বা দক্ষ শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ থাকতে পারে।
তারা আশা প্রকাশ করে বলেন, জাপানি কোম্পানিগুলো এখানে প্রোগ্রামিং, বিশ্লেষণাত্মক ও প্রকৌশলগত দক্ষতাসম্পন্ন সম্ভাব্য ইন্টার্নদের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে, তাদের প্রযুক্তিগত চাহিদা নিয়ে আলোচনা করতে পারে এবং শিক্ষার্থীদের প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা সম্পর্কে জানতে পারে। এছাড়া, বাংলাদেশি প্রতিভাদের সঙ্গে সহযোগিতার ফলে পণ্য উন্নয়ন এবং নতুন বাজার সম্পর্কে বোঝাপড়া আরও সমৃদ্ধ হতে পারে। কোম্পানিগুলোর প্রোফাইলে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, এআই ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যানুফ্যাকচারিং ডেটা অ্যানালাইসিস এবং টেকসই উন্নয়ন বা সাসটেইনেবিলিটি-বিষয়ক কাজের মতো ক্ষেত্রগুলোতে বিভিন্ন সুযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষা ও শিল্পখাতের বাস্তব কার্যক্রমের মধ্যে সংযোগ জোরদার করার ক্ষেত্রে এ ধরনের নিয়মিত আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সরাসরি সম্পৃক্ততা তৈরি, বর্তমান দক্ষতার চাহিদা সম্পর্কে ধারণা লাভ ও ক্যারিয়ারের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে; পাশাপাশি এটি প্রায়োগিক গবেষণা এবং শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগও তৈরি করে। এ ধরনের ধারাবাহিক সম্পৃক্ততা ইন্টার্নশিপ ও পারস্পরিক আদান-প্রদানের সুযোগ সৃষ্টিতে সহায়তা করার পাশাপাশি পরিবর্তনশীল প্রযুক্তিগত চাহিদা সম্পর্কে শিক্ষকদের মূল্যবান ধারণা প্রদান করতে পারে।

Comments (0)

Please sign in to leave a comment.

Sign In

No comments yet. Be the first to comment!