ঢাবি প্রতিনিধি:
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের
২০১৭-২০১৮, ২০১৮-২০১৯, ২০১৯-২০২০ এবং ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক
পরীক্ষায় বিশেষ কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ২৪ জন শিক্ষার্থীকে ডিরেক্টরস
অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ প্রদান করা হয়েছে। আজ ২৩ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার
ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত
ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
ইনস্টিটিউটের
পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ
অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর
(প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং ইঞ্জিনিয়ারিং
এন্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. উপমা কবির। অনুষ্ঠানে ইনস্টিটিউটের
শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয়
সংগীত পরিবেশন এবং পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান
শুরু হয়। স্বাগত বক্তব্য প্রদান ও পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নাম ঘোষণা
করেন অধ্যাপক ড. আব্দুল মুত্তালিব।
ডিরেক্টরস অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ প্রাপ্তরা-
২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের- ইফতেখারুল হক নাসিফ, অনিন্দ্য অর্ঘ্য। ফুটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের- তানজীমুল ইসলাম, নাদিয়া আক্তার শুচি। লেদার প্রোডাক্টস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের- বিলকিস বানু স্বর্ণা, অনিন্দিতা দে।
২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের- অরুন্ধতী সিনহা রায়, ফাহিম মাহমুদ। ফুটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের- জুনাইদ মোরশেদ অভ্র, সূচনা দাস। লেদার প্রোডাক্টস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের- ফারজানা রহমান, মো. ইসমাঈল হোসেন।
২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের- মো. ফাইয়াজ হোসেন, জোবায়ের আহমেদ। ফুটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের- সাবিনা আক্তার, সিলভিয়া ইসলাম সিলভী। লেদার প্রোডাক্টস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের- সানজিদা পারভীন রাহী, এনামুল হক।
২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের- রাবেয়া সুলতানা, মুহাইমিন আলম সিয়াম। ফুটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের- শারমিন সুলতানা, পলি রাণী দাস। লেদার প্রোডাক্টস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের- নাজিয়া সিদ্দিকা ফারজানা, সামিয়া আক্তার।
অনুষ্ঠানে
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বিশেষ অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে
পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ, মেডেল ও উত্তরীয় তুলে দেন।
প্রধান
অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, একটি
পুরস্কার কেবল একটি সনদ বা মেডেল নয়; এটি একজন শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের
শ্রম, অধ্যবসায়, মেধা ও সাফল্যের স্বীকৃতি। এই স্বীকৃতি শিক্ষার্থীদের
ভবিষ্যৎ জীবনে আরও উৎকর্ষতা অর্জনে অনুপ্রাণিত করবে।
তিনি বলেন,
বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জনের জন্য
দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং
এন্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ প্রতিষ্ঠান
শুধু ডিগ্রি প্রদান করে না, বরং শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও কর্মমুখী মানবসম্পদ
হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর অবদান রাখছে।
উপাচার্য পুরস্কারপ্রাপ্ত
শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, প্রকৃত শিক্ষার
উদ্দেশ্য শুধু সার্টিফিকেট অর্জন নয়; অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ
করে সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। তিনি ইনস্টিটিউটে আধুনিক
গবেষণাগার, উন্নত যন্ত্রপাতি এবং যুগোপযোগী ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ
সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ভর্তির হার
বৃদ্ধি এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।
বিশেষ
অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ
আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ডিরেক্টরস অ্যাওয়ার্ড শিক্ষার্থীদের একাডেমিক
উৎকর্ষতা, অধ্যবসায় ও মেধার গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। তবে মেধার পাশাপাশি
নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করাও
সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, বর্তমান সমাজে আলোকিত, সৎ ও
দায়িত্বশীল মানুষের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত বেশি। শিক্ষার্থীদের এমনভাবে
নিজেদের গড়ে তুলতে হবে যাতে তারা শুধু পেশাগত ক্ষেত্রেই নয়, সমাজ ও রাষ্ট্র
গঠনের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর
(প্রশাসন) আরও বলেন, লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের
শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্বিত অ্যালামনাই হিসেবে
শিল্পখাত ও একাডেমিয়ার মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন গড়ে তুলবে। কর্মজীবনে
প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর নিজেদের প্রতিষ্ঠানের প্রতি দায়িত্ববোধ বজায় রেখে নবীন
শিক্ষার্থীদের পেশাগত বিকাশে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।