01923-772433

[email protected]

মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণা থেকে বাঁচার ১০ নিয়ম, সেভ করে রাখুন

Save
Link Copied!
মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণা থেকে বাঁচার ১০ নিয়ম, সেভ করে রাখুন

মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণা থেকে নিজেকে ও পরিবারকে রক্ষা করতে লেখাটি সেভ করে রাখুন। বিকাশ, নগদ, রকেটের মতো মোবাইল আর্থিক সেবা এখন প্রায় প্রতিটি পরিবারের দৈনন্দিন লেনদেনের অংশ। সুবিধার পাশাপাশি বেড়েছে প্রতারণার নানা কৌশল—ভুয়া ফোনকল, লোভনীয় পুরস্কারের এসএমএস, ‘ভুল করে টাকা চলে গেছে’ বলে কান্নাকাটি কিংবা লিংকে ক্লিক করিয়ে অ্যাকাউন্টের তথ্য হাতিয়ে নেওয়া। একটু সচেতন থাকলেই এসব ফাঁদ এড়ানো যায়। নিচের ১০টি নিয়ম নিজে মেনে চলুন, আর পরিবারের বয়স্ক সদস্য ও পরিচিতদের সঙ্গে শেয়ার করুন।

১. পিন ও ওটিপি কখনোই কাউকে বলবেন না

আপনার পিন (PIN) এবং এসএমএসে আসা ওটিপি (OTP) কোড শুধু আপনার জন্য। কেউ নিজেকে কোম্পানির প্রতিনিধি, ব্যাংক কর্মকর্তা বা আত্মীয় পরিচয় দিয়ে এগুলো চাইলে ধরে নিন—এটি প্রতারণা। কোনো বৈধ প্রতিষ্ঠান ফোন করে আপনার পিন বা ওটিপি জানতে চায় না।

২. ‘ভুল করে টাকা চলে গেছে’—আগে নিজে যাচাই করুন

প্রতারকেরা প্রথমে একটি ভুয়া এসএমএস পাঠায়, তারপর ফোন করে টাকা ফেরত চায়। কারও কথায় টাকা পাঠানোর আগে নিজের অ্যাপ খুলে বা ডায়াল কোড দিয়ে (বিকাশ 247#, নগদ 167#, রকেট *322#) ব্যালেন্স ও লেনদেনের ইতিহাস নিজে দেখে নিন। সত্যিই ভুল লেনদেন হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হেল্পলাইনে জানান, সরাসরি অচেনা কাউকে টাকা পাঠাবেন না।

৩. প্রেরক দেখে এসএমএস চিনুন

প্রতিষ্ঠানের আসল বার্তা সাধারণত তাদের নামে (যেমন bKash, NAGAD) আসে। ব্যক্তিগত ০১ দিয়ে শুরু হওয়া নম্বর থেকে ‘টাকা জমা হয়েছে’ ধরনের মেসেজ এলে সেটিকে সন্দেহ করুন।

৪. লটারি, পুরস্কার ও চাকরির প্রলোভনে সাড়া দেবেন না

‘আপনি লাখ টাকা জিতেছেন, শুধু প্রসেসিং ফি পাঠান’ বা ‘ঘরে বসে চাকরি, আগে রেজিস্ট্রেশন ফি দিন’—এমন প্রস্তাব প্রায় সব সময়ই ফাঁদ। যে প্রতিযোগিতায় আপনি অংশ নেননি, তাতে পুরস্কার জেতার প্রশ্নই আসে না।

৫. অচেনা লিংকে ক্লিক নয়, অ্যাপ নিন শুধু অফিসিয়াল স্টোর থেকে

এসএমএস, মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে আসা লিংকে ক্লিক করে লগইন করবেন না। মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ সব সময় Google Play Store বা Apple App Store থেকে ডাউনলোড করুন।

৬. স্ক্রিন শেয়ার বা রিমোট অ্যাপ ইনস্টল করবেন না

‘সমস্যা সমাধান করে দিচ্ছি’ বলে কেউ যদি AnyDesk, TeamViewer বা স্ক্রিন শেয়ারিং অ্যাপ নামাতে বলে, সঙ্গে সঙ্গে কল কেটে দিন। এসব অ্যাপের মাধ্যমে প্রতারক আপনার ফোনের পর্দায় পিন ও ওটিপি দেখে ফেলতে পারে।

৭. এজেন্টের দোকানে নিজের পিন নিজেই দিন

ক্যাশ আউট বা লেনদেনের সময় ফোন অন্যের হাতে দেবেন না, পিন বলে দেবেন না। লেনদেন শেষে কনফার্মেশন মেসেজে টাকার অঙ্ক ও নম্বর মিলিয়ে তবেই দোকান ছাড়ুন।

৮. কঠিন পিন রাখুন, মাঝে মাঝে বদলান

জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বরের অংশ বা ১২৩৪৫-এর মতো সহজ পিন ব্যবহার করবেন না। পিন কোথাও লিখে রাখবেন না এবং কিছুদিন পরপর পরিবর্তন করুন।

৯. ফোনে স্ক্রিন লক ও অ্যাপ লক চালু রাখুন

ফোন হারালে বা অন্যের হাতে গেলে স্ক্রিন লক ও অ্যাপ লক আপনার টাকা রক্ষার প্রথম দেয়াল। ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেস লক থাকলে তা চালু করুন।

১০. ফোন বা সিম হারালে দেরি নয়

ফোন বা সিম হারালে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মোবাইল আর্থিক সেবার হেল্পলাইনে ফোন করে অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ করার অনুরোধ করুন এবং মোবাইল অপারেটরের কাছে সিম বন্ধ করুন। প্রয়োজনে নিকটস্থ থানায় জিডি করুন।

প্রতারণার শিকার হলে কী করবেন

  • দেরি না করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হেল্পলাইনে ফোন করে লেনদেনের তথ্য (ট্রানজেকশন আইডি, নম্বর, সময়) জানান।

  • প্রতারকের নম্বর, এসএমএস ও কল লগের স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করুন।

  • নিকটস্থ থানায় অভিযোগ বা জিডি করুন। জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করুন।

  • নারীরা অনলাইন হয়রানি বা প্রতারণার শিকার হলে পুলিশের ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’ হটলাইন ০১৩২০০০০৮৮৮-এ যোগাযোগ করতে পারেন।

জরুরি হেল্পলাইন নম্বর (সেভ করে রাখুন)

সেবা

হেল্পলাইন

বিকাশ

১৬২৪৭

নগদ

১৬১৬৭

রকেট (ডাচ-বাংলা ব্যাংক)

১৬২১৬

জাতীয় জরুরি সেবা

৯৯৯

মনে রাখুন: তাড়াহুড়া করানোই প্রতারকের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। কেউ চাপ দিলে থামুন, ফোন কেটে দিন, নিজে যাচাই করুন। লেখাটি উপকারী মনে হলে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন—আপনার একটি শেয়ার হয়তো কারও কষ্টার্জিত টাকা বাঁচিয়ে দেবে।

Comments (0)

Please sign in to leave a comment.

Sign In

No comments yet. Be the first to comment!