মোঃ রাশেদুল আলম রুপক নাটোর প্রতিনিধিঃ
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় একটি সড়ক নির্মাণকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে স্থানীয় এক বাসিন্দার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের বিলপাড়া এলাকায় জাকির হোসেন সুজন এর বিরুদ্ধে এ মানববন্ধন অুনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দয়ারামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (বাউয়েট) অভিমুখে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর আওতায় প্রায় ৪ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে ২ হাজার ২০০ মিটার সড়ক নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন। কাজটির ঠিকাদার কাজী হীরা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন সুজনের বাধার কারণে দীর্ঘদিন সড়কের নির্মাণকাজ বন্ধ ছিল। সম্প্রতি কাজ পুনরায় শুরু হলে তিনি আবারও বাধা দেন। অভিযোগ রয়েছে, সড়কের এজিং নির্মাণের পরদিন তা নিজের জমির ওপর হয়েছে দাবি করে তুলে ফেলেন এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে স্থানীয়দের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেন।
মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ আলী বলেন, সড়ক নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় এলাকাবাসী খুশি হলেও জাকির হোসেন সুজন বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করছেন। তাঁর অভিযোগ, সুজন ঠিকাদারের কাছে ৮০ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। তবে এলাকাবাসীর দাবি, ভালো মানের কাজ নিশ্চিত করে দ্রæত সড়কটি নির্মাণ শেষ করা হোক। তিনি বলেন, সড়কটি চালু হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং ভ্যান ও অটোরিকশা চালকদের জীবিকায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ বলেন, সড়কটি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। এটি নির্মিত হলে কয়েকটি গ্রামের মানুষের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ হবে। তিনি অভিযোগ করেন, জাকির হোসেন সুজন একাই বিভিন্নভাবে নির্মাণকাজে বাধা দিচ্ছেন। এলাকাবাসীর একটাই দাবি দ্রুত সড়কটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হোক।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কেয়ারটেকার হুমায়‚ন আহমেদ সম্রাট বলেন, ২ হাজার ২০০ মিটার সড়কের মধ্যে শুধু একটি স্থানেই সুজন আলীর কারণে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, সুজন টাকা দাবি করেন এবং তা না পেয়ে কাজে বাধা দেন। এ কারণে প্রায় সাত-আট মাস কাজ বন্ধ ছিল। সম্প্রতি কাজ পুনরায় শুরু হলেও তিনি সড়কের এজিং তুলে ফেলেন। কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের বিরুদ্ধে মামলাও করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। সম্রাট বলেন, দ্রæত কাজ শেষ করার জন্য তাদের ওপরও চাপ রয়েছে। তাই স্থানীয়রাই ক্ষুব্ধ হয়ে মানববন্ধন করেছেন।
বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী কাজীহীরা এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে জাকির হোসেন সুজনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোনটি রিসিভ করেন তাঁর বড় বোন মরিয়ম। তিনি বলেন, স্থানীয়দের হামলায় আহত হয়ে সুজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর দাবি, সুজনের বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি বলেন, সড়কটি যদি আমাদের জমির ওপর দিয়ে নির্মাণ করতে হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিয়ে করতে হবে। আমরা শুধুু আমাদের জমির ন্যায্য অধিকার ও ক্ষতিপ‚রণের দাবিই জানিয়েছি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী অনুপ কুমার ঘোষ বলেন, সড়ক নির্মাণকাজে শুধু সুজন আলী নামের একজন ব্যক্তি আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁকে জানানো হয়েছে, সড়কটি যদি তাঁর মালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে যায়, তাহলে সেখানে কোনো কাজ করা হবে না। তবে আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে জমি পরিমাপ করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। পরিমাপে যদি দেখা যায় সড়কটি তাঁর জমির ওপর দিয়ে যায়নি, তাহলে দ্রুত নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করা হবে।